Nikola Tesla জন্মই ছিল যার রহস্যময়। প্রচণ্ড প্রতিকূল আবহাওয়া ও বজ্রপাতের রাতে ১৮৫৬ সালে ৯ জুলাই এবং ১০ জুলাইয়ের মাঝে রহস্যময়ভাবে ঠিক রাত ১২ঃ০০ টা তার জন্ম হয় ক্রয়োশিয়াতে। তাই তার জন্ম তারিখ ২ টি বলা হয়ে থাকে।তবে কনফিউশন এড়াতে ১০ জুলাই তার জন্মদিন ধরা হয়।
খারাপ আর ভয়ঙ্কর আবহাওয়াতে জন্ম বলে মানুষ তাকে “Child of Darkness” বলেছিল কিন্তু তার মা বলেছিলেন সে একদিন পৃথিবীকে আলোকিত করবে, তাই তাকে তার মা “Child of Light” বলতেন। বাস্তবেও কিন্তু তাই হয়েছিল। তার আবিষ্কৃত AC বিদ্যুৎ পুরা পৃথিবীকেই আলোকিত করেছে এবং আমাদের আধুনিক পৃথিবী দিয়েছে।
Nikola Tesla এর পিতা তাকে ধর্ম যাজক বানাতে চেয়েছিলেন এবং পাঠিয়েও দিয়েছিলেন ধর্মযাজক দের কাছে। কিছুদিন পর কলেরায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু পথ থেকে বেঁচে আসেন এবং পারিবারিক ভাবে তাকে ইঞ্জিনিয়ার বানানোর পরিকল্পনা করা হয়। স্কুলে / কলেজে সে তার প্রতিভার বিস্ময় দেখাতে শুরু করলেন। বড় বড় ত্রিকোনামিতিক ক্যালকুলাস তিনি খাতা কলম ছাড়াই ব্রেইনে চিন্তা করেই উত্তর বলে দিতেন। সে এতোটাই মেধাবি ছিলেন যে কলেজের শিক্ষকরা তার বিস্ময়কর মেধা দেখে তার বাবাকে চিঠি দিত।
Engineering পড়ার সময়ে এক শিক্ষকের সাথে তার কোন একটা বিষয় নিয়ে দ্বিমত হয়। পরে সে প্রতিদিন ১৮ ঘণ্টা lab এ কাজ করে প্রমান করেন যে তার ধারনাই সঠিক। এই ঘটনা কলেজে ছড়িয়ে পড়লে তিনি সকলের কাছেই আরও বেশি বিস্ময়কর ছাত্র হয়ে ওঠেন।
মানব কল্যাণে Nikola Tesla এর যুগান্তরকারী
300 এর বেশি আবিস্কারের প্যাটেন্ট ছিল। এছাড়াও অনেক আবিস্কারের প্যাটেন্টই গ্রহন করেননি। আরও অনেক আবিষ্কারের আইডিয়া চুরি করে অন্যান্য বিজ্ঞানীরা নিজের বলে চালিয়েছিল। নিকোলা টেসলা একমাত্র বিজ্ঞানী ছিলেন যিনি যা চিন্তা করতে তাই তৈরি করে দেখাতেন। আবিষ্কারই ছিল তার নেশা।
তার আবিষ্কৃত প্যাটেন্ট গুলোর মধ্যে রয়েছে :
1. AC Electricity
2. Radio
3.Remote technology
4. Wireless Electricity
5. Induction Motor
6. Tesla Coil,7.Violet Ray, 8.TeleForce, 9.Neon Lamp, 10. Wireless Telegraphy, 11. Three phase Electric power, 12.Tesla Turbine, 13.Tesla valve, 14.Vacume Variable Capacitor, 15.shadowgraph, 16. Free Energy ***, 17. Tesla Experimental, 18. Tesla’s Columbus, 19. Resonant inductive coupling, 20 .Polyphase system, 21. Rotating magnetic field, 22. Radio control, 23. Plasma globe, 24. 30Violet rayp, 25. Carbon button lamp, 26. Telegeodynamics, 27.Teleoperation, 28. Torpedo, 29. Vacuum variable capacitor, 30. VTOL
আরও অনেক অনেক আবিষ্কার যা বর্ণনা করা কষ্টকর । এমনও অনেক জিনিস আছে যার আবিষ্কার মূলত Nikola Tesla ই করেছিলেন। কিন্তু আবিস্কারক হিসাবে তিনি পরিচিতি পাননি এবং আরো কিছু আবিষ্কার রয়েছে যা কিছু বিজ্ঞানী চুরি করে নিজের নামে করেছিলেন।
Radio
X-ray
Hidro Electric Power
Rader System ইত্যাদি
এডিসন বৈদ্যুতিক বাল্ব আবিস্কারের অনেক আগেই নাকি নিকোলা টেসলা ল্যাবে বাল্ব জালিয়ে কাজ করতে।
Nikola Tesla চাইলে তার কিছু আবিষ্কার দিয়ে পৃথিবী ধংস করার সক্ষমতা অর্জন করতে পারতেন । কিন্তু মানব কল্যাণের জন্য তিনি তা নিজে আবিষ্কার করেও নিজেই নষ্ট করে দেন।
এরকম কয়েকটি ভয়ংকর আবিষ্কার হলো :
1. Earthquake Machine: নিকোলা টেসলা এমন একটি মেশিন তৈরি করেন যা দিয়ে বড় মাত্রার ভুমিকম্প তৈরি করে ফেলেছিলেন। এটি মূলত ছিল একটি Oscillator যার নাম দিয়েছিলেন “Tesla Oscillator” এবং তিনি অনুভব করেছিলেন তার যন্ত্রটিকে যদি খুব বড় পরিসরে তৈরি করা হয় পুরা পৃথিবীতে ভূমিকম্প সৃষ্টি করা যেতে পারে। মানুষের কল্যাণের কথা চিন্তা করে তিনি নিজের হাতে হাতুরি দিয়ে ভেঙ্গে ফেলেছিলেন এবং আবিষ্কারটিও হারিয়ে যায়।
2. Artificial Tidal Wave:
সমুদ্রে বিশাল ঢেউ তৈরির প্রযুক্তি আবিষ্কার করে ফেলেছিলেন যা সুনামি তৈরি করতে সক্ষম ছিল এবং যা দিয়ে শত্রু পক্ষের জাহাজকে সেই ঢেউতে ডুবিয়ে দিতে পারতো।
3. Thought Camera:
নিকোলা টেসলা সেই সময়েই এমন একটি ক্যামেরা তৈরির কথা বলেছিলেন যা মানুষের চিন্তা শক্তি থেকে ডাটাতে কনভার্ট করে সেই গুলোকে দেখা যাবে একটি স্ক্রিনে, এমন একটি প্রজেক্ট। কিন্তু তিনি আর্থিক কারনে প্রজেক্ট করতে পারেননি। সম্ভব হলে মানুষের কোন কিছুই আর গোপন থাকতো না।
4. Electric-Powered Supersonic Airship:
তিনি এমন একটি Airship এর কথা বলেন যার গতি হবে এতই বেশি মাত্র ৩ ঘণ্টায় New York City থেকে London যেতে পারবে। কিন্তু এই আবিষ্কারটির সমস্ত মডেল, ডকুমেন্ট মৃত্যুর পরে হারিয়ে যায়।
5. Anti Gravity Flying Matching:
একসময় New York এর একটি মাগাজিনকে বলেন নিকোলা টেসলা আরও একটি Flying Matching নিয়ে কাজ করছিলেন যেটি দেখতে (UFO) এর মত হবে এবং যেকোন দিকে যেকোন গতিতে ছুটতে পারবে। এটি আকাশে ওড়ার সময় গ্রাভিটি শুন্য হয়ে পড়বে এবং বাতাসে স্থির অবস্থায় রাখা যাবে। কিন্তু এই মেশিনটিতে না থাকবে কোন পাখা না থাকবে কোন উইংস।
6. Time Machine:
নিকোলা টেসলা একমাত্র বিজ্ঞানী যিনি Time Machine নিয়ে কাজ করেছিলেন সবার প্রথম। অনেকেই মনে করেন তিনি টাইম মেশিন তৈরি করে ফেলেছিলেন।
“তার জন্মের মতই মৃত্যুটাও অদ্ভুত ছিল”। মারা যাবার দিন তার ঘরের দরজায় লিখা ছিল “Don’t Disturb Me”
নিকোলা টেসলা মৃত্যু বরন করেন অনেকটা মানসিক কষ্ট নিয়েই। তিনি পৃথিবীতে আরও কিছু দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার আবিষ্কারের পেছনে পরবর্তিতে আর কেউ বিনিয়োগ করেনি কারন তার আইডিয়া গুলো তখনকর সময়ে এতটাই আধুনিক ছিল যে বিনিয়োগ কারীরা বিশ্বাস করতে পারতো না। তাই তিনি কষ্ট নিয়েই বলেছিলেন “এই পৃথিবীতে মানুষ আমাকে বিশ্বাস করেনা।” তার মৃত্যুর পর সমস্ত আবিষ্কারের ডকুমেন্ট রহস্যজনক ভাবে হারিয়ে যায়।
অন্যান্য বিজ্ঞানীদের সাথে নিকোলা টেসলার তুলনা চলে না। তারা শুধু থিওরি আকারে তাঁদের আবিষ্কার গুলোকে প্রকাশ করতেন সেখানে নিকোলা টেসলা বাস্তবে তৈরি করে দেখাতেন এবং তার প্রত্যেকটা আবিষ্কারই ছিল অন্যান্য বিজ্ঞানী থেকে অনেক বিস্ময়কর। নিকোলা টেসলা কে বলা হয় “The Wizard of Electricity” কিন্তু তিনি ছিলেন আসলে “The King of all Scientists”. এবং তার আবিষ্কারই পৃথিবীটাকে আধুনিক করেছে। নিকোলা টেসলা তার জীবনের অর্জিত সমস্ত সম্পদ আবিষ্কারের পেছনে ব্যয় করেছিলেন। পৃথিবী আজ নিকোলা টেসলা কে প্রায় ভুলে গেছে। কিন্তু পৃথিবী মানুষ গুলো খুব ভাগ্যবান যে এমন একজন জ্ঞানী পৃথিবীতে এসে সব কিছু আলোকিত করে দিয়েছিলেন ।
😍বিনম্র শ্রদ্ধা রইল আপনার প্রতি 😍
Choyon




